Skip to content

জমির রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন করার নিয়ম ২০২৩

জমির রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন বলতে বোঝায় জমির রেকর্ড বা খতিয়ান অন্যের নামে যখন লিপিবদ্ধ হয় জমির মূল মালিক এবং দখলদার হওয়া সত্ত্বেও। এছাড়াও অনেক সময় ভুলবশত হয়ে যেতে পারে। আজকে আমরা জানবো জমির রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন করার নিয়ম।প্রায় ২০-২৫ বছর পর পর ভূমি জরিপের মাধ্যমে এসব রেকর্ড তৈরি করা হয় এগুলোতে ভুল পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপনের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন করা যায়।

জোরপূর্বক জমি দখল করলে কি করবেন? জমি দখল হলে করণীয়

ভূমি রেকর্ড কি?

সরেজমিনে জরিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে ভূমি রেকর্ড তৈরির প্রস্ত্ততি শুরু হয়। খসড়া গ্রাম (মৌজা) মানচিত্রই হলো ভূমি রেকর্ডের ভিত্তি। এই মৌজা ম্যাপ বা মানচিত্র প্রণয়নকে কিশ্তওয়ার বলা হয়। এই মানচিত্র সাধারণত ১৬ ইঞ্চি = ১ মাইল স্কেলে প্রণয়ন করা হয়। প্রথমে রেকর্ড তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় প্রকৃত অবস্থা দেখিয়ে প্লটের পর প্লট ভিত্তিতে। একে খানাপুরি বলা হয়।

রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের নিয়ম

ভূমি মন্ত্রনালয়ের ‘আইন শাখা-০১’ এর, গত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ তারিখের নং- ৩১.০০.০০০০.০৪২.৬৭.০৩১.১১.৮৪১ স্মারকে প্রচারিত ‘পরিপত্রে’ চূড়ান্ত প্রকাশিত রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য ৩(তিন) ধরনের কর্তৃপক্ষের কথা বলা হয়েছে- সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্তৃক বিবেচনাযোগ্য করনিক ভুলের মধ্যে নামের ভুল, অংশ বসানোর হিসেবে ভুল, দাগসুচিতে ভুল, ম্যাপের সংঙ্গে রেকর্ডের ভুল, জরিপকালে পিতার মৃত্যুর কারনে সন্তানদের নামে সম্পত্তি রেকর্ড হবার কথা থাকলেও জরিপকারকদের ভুল বা অজ্ঞাত কারনে তা মুল প্রজা বা পিতার নামে রেকর্ড হওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

একইভাবে প্রতারনামূলক লিখনের (Fraudulent Entry) মাধ্যমে সৃষ্ট চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ড সংশোধনের জন্য প্রাপ্ত আবেদন অথবা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব কর্মকর্তা প্রজাস্বত্ত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ এর বিধি ২৩ এর উপবিধি (৪) অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

২। The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪৯ ধারার ৪(চার) উপধারা মতে, Board of Land Administration যে কোন সময় যে কোন খতিয়ানে বা চুড়ান্তভাবে প্রকাশিত সেটেলমেন্ট রেন্ট-রোলে অন্তরভুক্ত যথার্থ ভুল (Bonafide Mistake) সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু Board of Land Administration বর্তমানে বিলুপ্ত বিধায় এ ক্ষমতা সরকারের পাশাপাশি ভূমি আপিল বোর্ডের রয়েছে।

৩। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সর্বশেষ জরিপে প্রকাশিত খতিয়ানের বিষয়ে যে কোন আদেশ প্রদানে এখতিয়ারবান। জরিপ শেষ স্বত্বলিপি গেজেটে চুড়ান্ত প্রকাশনার পর কোন সংশোধনীর দাবী থাকলে তা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচার্য” অর্থাৎ আপনার খতিয়ানে যে কোন ধরনের ভুল হোক না কেন, ভুলের ধরন অনুসারে উপরিউক্ত তিন ভাবেই তা সংশোধন সম্ভব।

জমির রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন করার নিয়ম ২০২৩

আবেদনের সাথে যেসব কাগজপত্র জাম দিতে হবে

  • সর্বশেষ নামজারি (সিএস, আর.এস, এসএ, বিএস) খতিয়ানের সত্যায়িত ফটোকপি/ সার্টিফাইড কপি
  • সংশ্লিষ্ট মৌজার এসএ ও বিএস মৌজা ম্যাপ
  • ওয়ারিশ সনদপত্র।
  • মূল দলিলের ফটোকপি।
  • সর্বশেষ জরিপের পর থেকে ভায়া/পিট দলিল।
  • ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা পত্র।
  • আদালতের রায়/আদেশ/ডিক্রির সার্টিফাইড কপি এবং আরজির সার্টিফাইড কপি
  • বিএস জরিপের মাঠপর্চা, ডিপি খতিয়ান ইত্যাদি

একইভাবে প্রতারণামূলক লিখনের (Fraudulent Entry) মাধ্যমে সৃষ্ট চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ড সংশোধনের জন্য প্রাপ্ত আবেদন অথবা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব কর্মকর্তা প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ এর বিধি ২৩ এর উপবিধি (৪) অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জমির রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন ধাপ গুলো দেখে নিই

  • AC Land অফিসে আবেদন করতে হবে- পূর্ববর্তী জরিপের কাগজপত্র, খাজনা বিবরনী, ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার সাক্ষরিত খতিয়ানের কপি সহ AC Land অফিসে সহকারী ভূমি কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হবে।
  • ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিবেদন দাখিল করবে- AC Land এ আবেদনের পর আবেদনটি রেজিস্ট্রার করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রেরন করা হবে। ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সরজমিনে সেই আবেদনের তদন্ত ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে একটি প্রস্তাব প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং তা উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠাবেন।
  • সহকারী ভূমি কমিশনারের নোটিশশুনানি জারি করবে। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর সহকারী ভূমি কমিশনার আবেদনকারীর জমির রেকর্ডকৃত মালিক এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের শুনানির তারিখ ও সময় নির্ধারন করে নোটিশ প্রদান করবেন। এবং নির্দিষ্ট দিনে শুনানি ও দলিলাদি যাচাই-বাছাই করার পর কোন বিরোধ না থাকলে সহকারী ভূমি কমিশনার রেকর্ড সংশোধনের আদেশ দেন।
  • জমির রেকর্ড সংশোধন হবে-আদেশ প্রাপ্তির পর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রস্তুতকৃত সংশোধিত ৫ কপি খতিয়ানের স্বাক্ষরের জন্য আবেদনকারীর থেকে প্রয়োজনীয় ফি আদায় করেন এবং খতিয়ানের কপি গুলো মূল নথি, জেলা রেকর্ড রুম, উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, আবেদনকারীর, রেজিস্টারে সংরক্ষন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রেজিস্টার-২ প্রেরণ করা করা হবে। তথ্য পুনরায় হালনাগাদ প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং উর্ধতন প্রক্রিয়ায় এন্ট্রির মাধ্যমে জমির করনিক ভূল সংশোধন কার্যক্রম শেষ হবে।

খতিয়ান সংশোধন ফি ১১৫০ টাকা জমা দিয়ে ডিসিআর এবং সংশোধিত খতিয়ানের কপি উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। তবে সংশোধনের পুরো পক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত সময় লাগে ৩০-৩৫ দিন।

2 thoughts on “জমির রেকর্ড বা খতিয়ান সংশোধন করার নিয়ম ২০২৩”

  1. অনলাইনে জমির খতিয়ান অনুসন্ধান
    ই পর্চা খতিয়ান অনুসন্ধান
    নামজারি খতিয়ান অনুসন্ধান
    খতিয়ান ও দাগের তথ্য অনুসন্ধান করার সহজ নিয়ম
    আর এস খতিয়ান অনুসন্ধান করার সহজ নিয়ম
    ইসলামী ব্যাংক প্রবাসী লোন পদ্ধতি
    গ্রামে বাড়ি করার জন্য ব্যাংক লোন নিন সহজে
    প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন অনলাইন আবেদন করার নিয়ম
    প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ
    কৃষি ব্যাংক লোন নেওয়ার নিয়ম যেনে লোন নিন সহজেই
    ডাচ বাংলা ব্যাংক লোন
    আশা এনজিও লোন পদ্ধতি
    10000 টাকার মধ্যে ভিভো মোবাইল 2023
    12 হাজার টাকার মোবাইল Vivo
    ৮ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন বাংলাদেশ
    ৪০০০ টাকার মধ্যে ভালো মোবাইল
    ১৫০০০ টাকার মধ্যে ভালো গেমিং ফোন
    সবচেয়ে সেরা কম দামে বাটন মোবাইল
    Itel বাটন মোবাইলের দাম ও ছবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *